মূল কনটেন্টে যান

প্রমিত বানান ও শব্দের প্রয়োগ: প্রশ্ন ও উত্তর

প্রমিত বানান ও শব্দের প্রয়োগ টপিকে পেট্রোবাংলা ও জ্বালানি খাত নিয়োগ পরীক্ষার ২০৬টি প্রশ্ন আছে, এটি বাংলা ভাষা ও সাহিত্য বিষয়ের অংশ। নিচের ১৫টি নমুনা প্রশ্ন সঠিক উত্তর ও ব্যাখ্যাসহ দেওয়া হলো।

নমুনা প্রশ্ন

বাগধারার অর্থ নির্ণয় করুন : 'চক্ষুদান করা'।

  1. ক) উপকার করা
  2. খ) চুরি করা
  3. গ) ক্ষতি করা
  4. ঘ) দান করা
  5. ঙ) কোনোটিই নয়
উত্তর দেখুন

সঠিক উত্তর: খ) চুরি করা

উত্তর চুরি করা। ‘চক্ষুদান করা’ বাগধারাটি ঠাট্টা করে চুরি বোঝাতে ব্যবহার হয়, যেন কেউ জিনিসটির ওপর চোখ দিয়ে তা নিয়ে নিল। শব্দে ‘দান’ থাকলেও অর্থ দান বা উপকার নয়। বাগধারায় আক্ষরিক অর্থের বদলে প্রচলিত ভাবটিই আসল।

যে পরীক্ষায় এসেছে: TGTDCL ২০২১

‘অনুরক্ত’- এর বিপরীত শব্দ কোনটি?

  1. ক) উক্তির
  2. খ) বিরক্ত
  3. গ) ত্যক্ত
  4. ঘ) উপরের সবগুলো
  5. ঙ) কোনটিই নয়
উত্তর দেখুন

সঠিক উত্তর: খ) বিরক্ত

উত্তর বিরক্ত। ‘অনুরক্ত’ মানে কারও প্রতি আসক্ত বা টান আছে এমন। তার উল্টো মনোভাব হলো বিরূপ বা বীতরাগ হওয়া, যা ‘বিরক্ত’ শব্দে প্রকাশ পায়। দুটি শব্দই ‘রক্ত’ (রঞ্জিত, আসক্ত) থেকে, শুধু উপসর্গ আলাদা: ‘অনু’ টান বোঝায়, ‘বি’ বিপরীত ভাব। ‘ত্যক্ত’ মানে পরিত্যক্ত, বিপরীত শব্দ নয়।

যে পরীক্ষায় এসেছে: Petrobangla ২০১৭

নিচের কোন বানানটি শুদ্ধ?

  1. ক) দুষ্কৃতকারি
  2. খ) দুষ্কৃতিকারী
  3. গ) দুষ্কৃতীকারী
  4. ঘ) দুষ্কৃতকারী
উত্তর দেখুন

সঠিক উত্তর: ঘ) দুষ্কৃতকারী

উত্তর ‘দুষ্কৃতকারী’। মূল শব্দ ‘দুষ্কৃত’ (দুঃ + কৃত), মানে মন্দ কাজ। তার সঙ্গে ‘কারী’ যোগে হয় যে মন্দ কাজ করে। ‘কারী’ তৎসম প্রত্যয়, তাই শেষে দীর্ঘ ঈ-কার থাকে। ‘দুষ্কৃতি’ নিজেই মন্দ কাজ, তাই ‘দুষ্কৃতিকারী’ রূপটি অপ্রয়োজনীয় ও অশুদ্ধ।

যে পরীক্ষায় এসেছে: BAPEX ২০২৩

'জল' শব্দের সমার্থক নয় কোনটি?

  1. ক) সলিল
  2. খ) উদক
  3. গ) নীর
  4. ঘ) জলধি
উত্তর দেখুন

সঠিক উত্তর: ঘ) জলধি

উত্তর জলধি। জলধি মানে সমুদ্র: 'জল' আর 'ধি' (ধারণ করে যে) মিলে যা পানি ধরে রাখে। সলিল, উদক আর নীর তিনটিই সরাসরি পানির প্রতিশব্দ। তাই এই চারটির মধ্যে কেবল জলধি জলের সমার্থক নয়, এটি জলাধারের নাম। একই ধাঁচের শব্দ জলধর (মেঘ) ও জলজ।

যে পরীক্ষায় এসেছে: MPEMR ২০১৯

'অভিরুচি' শব্দের অর্থ কী?

  1. ক) বিকৃত রুচি
  2. খ) ইচ্ছা
  3. গ) সুন্দর রুচি
  4. ঘ) সাগর
উত্তর দেখুন

সঠিক উত্তর: খ) ইচ্ছা

উত্তর ইচ্ছা। ‘অভিরুচি’ মানে নিজের পছন্দ, মর্জি বা ইচ্ছা। ‘যার যেমন অভিরুচি’ কথাটিতে এই অর্থই আসে। ‘অভি’ উপসর্গ এখানে অর্থ জোরালো করে, রুচির বিকৃতি বোঝায় না। তাই ‘বিকৃত রুচি’ বা ‘সুন্দর রুচি’ ভুল।

যে পরীক্ষায় এসেছে: BAPEX ২০১৭

‘দেশের যত নদীর ধারা জল না, ওরা অশ্রুধারা।’– এই উক্তিটি নিচের কোন পারিবাহিক অলংকার দ্বারা শোভিত?

  1. ক) অপহ্নতি
  2. খ) যমক
  3. গ) অর্থোন্তরন্যাস
  4. ঘ) অভিযোজন
উত্তর দেখুন

সঠিক উত্তর: ক) অপহ্নতি

উত্তর অপহ্নুতি। উপমেয়কে অস্বীকার করে উপমানকে প্রতিষ্ঠা করলে এই অর্থালংকার হয়। এখানে নদীর ধারাকে ‘জল না’ বলে নাকচ করা হয়েছে, আর বলা হয়েছে সেগুলো আসলে অশ্রুধারা। ‘না’ বা ‘নয়’ দিয়ে আসলটিকে অস্বীকার করাই অপহ্নুতির চিহ্ন। যমক শব্দালংকার, এক শব্দ ভিন্ন অর্থে বারবার আসে।

যে পরীক্ষায় এসেছে: BCS ২০১৮

'জিলাপীর প্যাচ' বাগধারাটির অর্থ কী?

  1. ক) প্যাচানো
  2. খ) জটিল
  3. গ) কুটিল বুদ্ধি
  4. ঘ) কলহপ্রিয়
উত্তর দেখুন

সঠিক উত্তর: গ) কুটিল বুদ্ধি

উত্তর কুটিল বুদ্ধি। জিলাপি পেঁচিয়ে পেঁচিয়ে ভাজা হয়, তাই এর গড়ন থেকে ঘোরানো-প্যাঁচানো মনের ভাব বোঝাতে বাগধারাটি চালু হয়েছে। যে লোক সোজা পথে না গিয়ে চালাকি আর মারপ্যাঁচ খোঁজে, তার স্বভাবকেই এটি বোঝায়। শুধু 'প্যাঁচানো' বা 'জটিল' আক্ষরিক মানে, বাগধারার ভাবার্থ নয়। প্রমিত বানান 'জিলাপির প্যাঁচ'।

যে পরীক্ষায় এসেছে: Petrobangla ২০১৯

'রামগরুড়ের ছানা' কথাটির অর্থ—

  1. ক) কাল্পনিক জন্তু
  2. খ) গোমড়ামুখো লোক
  3. গ) পুরোনো পাখি
  4. ঘ) গরু
উত্তর দেখুন

সঠিক উত্তর: খ) গোমড়ামুখো লোক

উত্তর গোমড়ামুখো লোক। ‘রামগরুড়ের ছানা’ বাগধারায় এমন মানুষ বোঝায় যে কখনো হাসে না, সবসময় মুখ ভার করে থাকে। সুকুমার রায়ের ‘আবোল তাবোল’-এর একটি ছড়া থেকে কথাটি জনপ্রিয় হয়। আক্ষরিক জন্তু বা পাখি এখানে বিষয় নয়।

যে পরীক্ষায় এসেছে: BREB ২০২১

নিচের কোন শব্দে স্বভাবতই 'ষ' হয়?

  1. ক) ষড়ঋতু
  2. খ) কোষ
  3. গ) ভাষা
  4. ঘ) a, b, c সবগুলোই
  5. ঙ) কোনটিই নয়
উত্তর দেখুন

সঠিক উত্তর: ঘ) a, b, c সবগুলোই

উত্তর ‘ক, খ, গ সবগুলোই’। তিনটি শব্দেই ‘ষ’ এসেছে মূল সংস্কৃত শব্দ থেকে, কোনো ষত্ব-বিধানের নিয়মে নয়। ‘ষড়ঋতু’-তে ‘ষট্’ (ছয়), ‘কোষ’ আর ‘ভাষা’ মূল থেকেই ষ নিয়ে আসে। এগুলোকে স্বভাবত ষ বলে। এর উদাহরণ মুখস্থ রাখতে হয়: আষাঢ়, ঈষৎ, পৌষ, ভাষা, ষোড়শ।

যে পরীক্ষায় এসেছে: BGFCL ২০২১

'জিলাসির প্যাঁচ' বাগধারাটির অর্থ কী?

  1. ক) প্যাঁচানো
  2. খ) জটিল
  3. গ) কুটিল বুদ্ধি
  4. ঘ) কলহপ্রিয়
উত্তর দেখুন

সঠিক উত্তর: গ) কুটিল বুদ্ধি

উত্তর কুটিল বুদ্ধি। প্রশ্নে 'জিলাসি' ছাপার ভুল, প্রমিত বাগধারা 'জিলাপির প্যাঁচ'। জিলাপির পেঁচানো গড়নের মতো যার মনে মারপ্যাঁচ, যে সরল পথে চলে না, তার স্বভাব বোঝাতে এটি বলা হয়। 'প্যাঁচানো' বা 'জটিল' শব্দের আক্ষরিক মানে মাত্র, আর 'কলহপ্রিয়' ঝগড়াটে মানুষকে বোঝায়।

যে পরীক্ষায় এসেছে: Petrobangla ২০১৯

'একাদশে বৃহস্পতি' বলতে কী বুঝায়?

  1. ক) আশার কথা
  2. খ) সৌভাগ্যের বিষয়
  3. গ) মজা পাওয়া
  4. ঘ) আনন্দের বিষয়
উত্তর দেখুন

সঠিক উত্তর: খ) সৌভাগ্যের বিষয়

উত্তর সৌভাগ্যের বিষয়। জ্যোতিষ মতে বৃহস্পতি একাদশ ঘরে থাকলে ভাগ্য খুলে যায়। সেখান থেকে ‘একাদশে বৃহস্পতি’ মানে খুব সুসময় বা সৌভাগ্যের অবস্থা। আশা, মজা বা আনন্দ এর কাছাকাছি হলেও মূল ভাব ভাগ্য।

যে পরীক্ষায় এসেছে: Petrobangla ২০১৬

নিচের কোনটি বানানটি শুদ্ধ?

  1. ক) তিরশ্চির
  2. খ) তিরস্কার
  3. গ) তীরশ্চার
  4. ঘ) তীরস্কার
উত্তর দেখুন

সঠিক উত্তর: খ) তিরস্কার

শুদ্ধ বানান ‘তিরস্কার’, যার মানে ভর্ৎসনা বা বকুনি। শব্দটি বিসর্গ সন্ধিতে তৈরি: তিরঃ শব্দের বিসর্গের পরে ক এলে বিসর্গ স্-এ বদলে যায়। শুরুর ‘তি’-তে হ্রস্ব ই-কার বসে। ‘তীরস্কার’-এ দীর্ঘ ঈ-কার ভুল, আর ‘শ্চ’ যুক্ত রূপগুলো কোনো শব্দই নয়।

যে পরীক্ষায় এসেছে: SGCL ২০২০

সমুদ্র হতে হিমালয় পর্যন্ত বাক্যাংশের অংশ হিসাবে কোনটি সঠিক?

  1. ক) অসমুদ্র
  2. খ) হিমালয় পর্যন্ত
  3. গ) আসমুদ্র
  4. ঘ) আসমুদ্রহিমাচল
উত্তর দেখুন

সঠিক উত্তর: ঘ) আসমুদ্রহিমাচল

সঠিক উত্তর ‘আসমুদ্রহিমাচল’। এটি এককথায় প্রকাশ: ‘আ’ উপসর্গ এখানে ‘পর্যন্ত’ বোঝায়, তাই আসমুদ্রহিমাচল মানে সমুদ্র থেকে হিমালয় পর্যন্ত বিস্তৃত সব এলাকা। ‘আসমুদ্র’ শুধু সমুদ্র পর্যন্ত বোঝায়, পুরো বাক্যাংশ নয়।

যে পরীক্ষায় এসেছে: DPDC ২০১৮

'চোখ টাটানো' বাগধারাটির যথার্থ অর্থ-

  1. ক) চোখের ব্যথা
  2. খ) চোখ লাল হওয়া
  3. গ) লজ্জা পাওয়া
  4. ঘ) হিংসা করা
উত্তর দেখুন

সঠিক উত্তর: ঘ) হিংসা করা

উত্তর হিংসা করা। কারও ভালো দেখে মনে জ্বালা ধরলে বলা হয় ‘চোখ টাটানো’। এখানে চোখের ব্যথা বা লাল হওয়া রূপক মাত্র, আসল অর্থ ঈর্ষা। যেমন: ‘প্রতিবেশীর নতুন বাড়ি দেখে তার চোখ টাটায়।’

যে পরীক্ষায় এসেছে: KGDCL ২০১৬

কোন বানানটি শুদ্ধ?

  1. ক) সমিচিীন
  2. খ) সমীচীন
  3. গ) সমীচিন
  4. ঘ) সমিচীন
উত্তর দেখুন

সঠিক উত্তর: খ) সমীচীন

শুদ্ধ বানান ‘সমীচীন’, অর্থ যুক্তিসংগত বা উচিত। দুই জায়গাতেই দীর্ঘ ঈ-কার বসে: ‘মী’ আর ‘চী’। মনে রাখার সহজ উপায়, শব্দটিতে কোনো হ্রস্ব ই-কার নেই। বাকি তিনটি রূপে এক বা দুই জায়গায় হ্রস্ব ই-কার বসানো হয়েছে, তাই সেগুলো ভুল।

যে পরীক্ষায় এসেছে: Petrobangla ২০১৬