মূল কনটেন্টে যান

প্রাচীন ও মধ্যযুগীয় বাংলা সাহিত্য: প্রশ্ন ও উত্তর

প্রাচীন ও মধ্যযুগীয় বাংলা সাহিত্য টপিকে পেট্রোবাংলা ও জ্বালানি খাত নিয়োগ পরীক্ষার ৪৫টি প্রশ্ন আছে, এটি বাংলা ভাষা ও সাহিত্য বিষয়ের অংশ। নিচের ১৫টি নমুনা প্রশ্ন সঠিক উত্তর ও ব্যাখ্যাসহ দেওয়া হলো।

নমুনা প্রশ্ন

'গোরক্ষ বিজয়' কাব্য কোন ধর্মমতের কাহিনী অবলম্বনে লেখা?

  1. ক) শৈবধর্ম
  2. খ) বৌদ্ধ সহজযান
  3. গ) নাথধর্ম
  4. ঘ) কোনোটিই নয়
উত্তর দেখুন

সঠিক উত্তর: গ) নাথধর্ম

উত্তর নাথধর্ম। ‘গোরক্ষ বিজয়’ মধ্যযুগের নাথসাহিত্যের প্রধান কাব্য, রচয়িতা শেখ ফয়জুল্লাহ। কাহিনিতে গুরু মীননাথ কদলী দেশে গিয়ে ভোগবিলাসে আটকে পড়েন, শিষ্য গোরক্ষনাথ তাঁকে উদ্ধার করে যোগের পথে ফিরিয়ে আনেন। নাথপন্থী যোগীদের শিবকেন্দ্রিক সাধনাই এর ভিত্তি, তবে শৈবধর্মের সাধারণ পূজা-কাহিনি নয়।

যে পরীক্ষায় এসেছে: MPEMR ২০১৯

‘চণ্ডীমঙ্গল’ কাব্যের উপাস্য ‘চণ্ডী’ কার স্ত্রী?

  1. ক) জগন্নাথ
  2. খ) বিষ্ণু
  3. গ) প্রজাপতি
  4. ঘ) শিব
উত্তর দেখুন

সঠিক উত্তর: ঘ) শিব

উত্তর শিব। মঙ্গলকাব্যের চণ্ডী আসলে শিবের স্ত্রী পার্বতী বা দুর্গার লৌকিক রূপ। ‘চণ্ডীমঙ্গল’-এ এই দেবী কালকেতু ও ধনপতির কাহিনির মাধ্যমে মর্ত্যে নিজের পূজা প্রতিষ্ঠা করেন। কাব্যধারার শ্রেষ্ঠ কবি মুকুন্দরাম চক্রবর্তী, যাঁকে ‘কবিকঙ্কণ’ বলা হয়।

যে পরীক্ষায় এসেছে: BCS ২০১৮

কোন পণ্ডিত চর্যাপদের পদগুলো টীকার মাধ্যমে ব্যাখ্যা করেন?

  1. ক) কাহু পা
  2. খ) লুই পা
  3. গ) ডাকর্ণব
  4. ঘ) মুনিদত্ত
  5. ঙ) কোনটিই নয়
উত্তর দেখুন

সঠিক উত্তর: ঘ) মুনিদত্ত

উত্তর মুনিদত্ত। তিনি সংস্কৃত ভাষায় চর্যাপদের টীকা লেখেন, যার নাম ‘নির্মলগিরা’। নেপালে পাওয়া পুথিতে পদগুলোর পাশাপাশি এই টীকাও ছিল, আর এর সাহায্যেই অনেক দুর্বোধ্য পদের অর্থ বোঝা গেছে। একটি পদের টীকা তিনি করেননি। কাহ্নপা ও লুইপা নিজেরা চর্যার কবি, টীকাকার নন।

যে পরীক্ষায় এসেছে: BGFCL ২০১১

মধুসূদন দত্তের 'মেঘনাদবধ' কাব্যের উৎস কী?

  1. ক) রামায়ণ
  2. খ) মহাভারত
  3. গ) ঋগবেদ
  4. ঘ) কুমারসম্ভব
উত্তর দেখুন

সঠিক উত্তর: ক) রামায়ণ

উত্তর রামায়ণ। মাইকেল মধুসূদন দত্তের ‘মেঘনাদবধ কাব্য’ (১৮৬১) রামায়ণের লঙ্কাকাণ্ড থেকে নেওয়া। রাবণপুত্র মেঘনাদ (ইন্দ্রজিৎ) লক্ষ্মণের হাতে নিহত হওয়ার ঘটনা এর বিষয়। মধুসূদন রাবণ ও মেঘনাদকে সহানুভূতি দিয়ে এঁকেছেন। এটি অমিত্রাক্ষর ছন্দে লেখা বাংলার প্রথম সার্থক মহাকাব্য।

যে পরীক্ষায় এসেছে: BREB ২০২৪

চর্যাপদের তিব্বতি অনুবাদ প্রকাশ করেন কে?

  1. ক) প্রবোধচন্দ্র বাগচী
  2. খ) যতীন্দ্র মোহন বাগচী
  3. গ) প্রফুল্ল মোহন বাগচী
  4. ঘ) প্রণয়ভূষণ বাগচী
উত্তর দেখুন

সঠিক উত্তর: ক) প্রবোধচন্দ্র বাগচী

উত্তর প্রবোধচন্দ্র বাগচী। তিনি ১৯৩৮ সালে চর্যাপদের তিব্বতি অনুবাদ প্রকাশ করেন। এই অনুবাদ থেকে মূল পুথির হারানো পদগুলোর অর্থ ও কবিদের নাম জানা যায়, আর মোট পদসংখ্যা নিয়েও ধারণা মেলে। মূল পুথি আবিষ্কার করেন হরপ্রসাদ শাস্ত্রী, নেপালে, ১৯০৭ সালে।

যে পরীক্ষায় এসেছে: BCS ২০১৮

জীবনকাব্য রচনার জন্য বিখ্যাত-

  1. ক) ফকির গরীবুল্লাহ
  2. খ) নরহরি চক্রবর্তী
  3. গ) বিপ্রদাস পিপিলআই
  4. ঘ) বৃন্দাবন দাস
উত্তর দেখুন

সঠিক উত্তর: ঘ) বৃন্দাবন দাস

উত্তর বৃন্দাবন দাস। মধ্যযুগে শ্রীচৈতন্যের জীবন নিয়ে লেখা কাব্যকে জীবনী কাব্য বলে। বৃন্দাবন দাসের ‘চৈতন্যভাগবত’ বাংলায় এই ধারার প্রথম বই। পরে কৃষ্ণদাস কবিরাজ লেখেন ‘চৈতন্যচরিতামৃত’, যা সবচেয়ে প্রামাণ্য ধরা হয়। নরহরি চক্রবর্তীও বৈষ্ণব জীবনী লিখেছেন, তবে প্রথম ও প্রধান নাম বৃন্দাবন দাস।

যে পরীক্ষায় এসেছে: BCS

বৈষ্ণব পদাবলির সঙ্গে কোন ভাষা সম্পর্কিত?

  1. ক) সান্ধ্যভাষা
  2. খ) অধিভাষা
  3. গ) ব্রজবুলি
  4. ঘ) সংস্কৃত ভাষা
উত্তর দেখুন

সঠিক উত্তর: গ) ব্রজবুলি

উত্তর ব্রজবুলি। মৈথিলি আর বাংলার মিশেলে গড়া একটি কৃত্রিম সাহিত্যভাষা এটি, মুখের ভাষা নয়। বিদ্যাপতির মৈথিলি পদের প্রভাবে বাঙালি বৈষ্ণব কবিরা এই ভাষায় রাধাকৃষ্ণের পদ লেখেন। গোবিন্দদাস এতে সবচেয়ে সফল। রবীন্দ্রনাথের ‘ভানুসিংহ ঠাকুরের পদাবলী’ও ব্রজবুলিতে লেখা।

যে পরীক্ষায় এসেছে: BCS

চর্যাপদের প্রাপ্তিস্থান কোথায়?

  1. ক) বাংলাদেশ
  2. খ) নেপাল
  3. গ) উড়িষ্যা
  4. ঘ) ভুটান
উত্তর দেখুন

সঠিক উত্তর: খ) নেপাল

উত্তর নেপাল। ১৯০৭ সালে মহামহোপাধ্যায় হরপ্রসাদ শাস্ত্রী নেপালের রাজকীয় পুথিশালায় পুথিটি খুঁজে পান। নয় বছর পরে, ১৯১৬ সালে, কলকাতার বঙ্গীয় সাহিত্য পরিষদ সেটি আরও তিনটি পুথির সঙ্গে এক খণ্ডে ছাপে। বাংলার লিখিত সাহিত্যের সবচেয়ে পুরোনো নমুনা এটিই।

যে পরীক্ষায় এসেছে: BCS ২০১৮

বাংলা ভাষার উৎপত্তি কোন শতাব্দীতে?

  1. ক) সপ্তম
  2. খ) অষ্টম
  3. গ) নবম
  4. ঘ) দশম
  5. ঙ) কোনটিই নয়
উত্তর দেখুন

সঠিক উত্তর: ক) সপ্তম

উত্তর সপ্তম শতাব্দী, ড. মুহম্মদ শহীদুল্লাহর মত অনুযায়ী। তিনি বাংলার উৎপত্তি ধরেছেন সপ্তম শতকে, গৌড়ী প্রাকৃত থেকে। ড. সুনীতিকুমার চট্টোপাধ্যায় ধরেছেন দশম শতক, মাগধী অপভ্রংশ থেকে। বাংলাদেশের প্রায় সব পরীক্ষায় শহীদুল্লাহর মতকেই উত্তর ধরা হয়, তবে প্রশ্নে কারও নাম থাকলে সেটি মিলিয়ে নিতে হবে।

যে পরীক্ষায় এসেছে: TGTDCL ২০১৬

'মধুমালতী' কাব্যগ্রন্থের কবি হলেন-

  1. ক) শাহ গরীবুল্লাহ
  2. খ) সৈয়দ সুলতান
  3. গ) জৈনুদ্দীন
  4. ঘ) সৈয়দ হামজা
উত্তর দেখুন

সঠিক উত্তর: ঘ) সৈয়দ হামজা

উত্তর সৈয়দ হামজা। তিনি অষ্টাদশ শতকের কবি, ১৭৮৮ সালে ‘মধুমালতী’ রচনা করেন, আর ফকির গরীবুল্লাহর অসমাপ্ত ‘আমীর হামজা’ শেষ করেন। একই নামের কাহিনি এর আগে মুহম্মদ কবিরও লিখেছিলেন (১৫৮৮)। বিকল্পে সৈয়দ হামজাই ‘মধুমালতী’র কবি।

যে পরীক্ষায় এসেছে: SGCL ২০২৩

বিদ্যাপতি মূলত কোন ভাষার কবি ছিলেন?

  1. ক) মারাঠি
  2. খ) হিন্দি
  3. গ) মৈথিলি
  4. ঘ) গুজরাটি
উত্তর দেখুন

সঠিক উত্তর: গ) মৈথিলি

উত্তর মৈথিলি। বিদ্যাপতি চতুর্দশ-পঞ্চদশ শতকে মিথিলার রাজসভার কবি ছিলেন, পদ লেখেন মৈথিলি ভাষায়। তিনি কখনো বাংলায় লেখেননি, তবু বাংলার বৈষ্ণব পদাবলিতে তাঁর প্রভাব এত বেশি যে তাঁকে বাংলা সাহিত্যের কবি হিসেবে পড়ানো হয়। তাঁর উপাধি ‘মৈথিল কোকিল’।

যে পরীক্ষায় এসেছে: BCS ২০১৮

উল্লিখিতদের মধ্যে কে প্রাচীন যুগের কবি নন?

  1. ক) কাহ্নপাদ
  2. খ) লুইপাদ
  3. গ) ভুসুকুপাদ
  4. ঘ) রমণীপাদ
উত্তর দেখুন

সঠিক উত্তর: ঘ) রমণীপাদ

উত্তর রমণীপাদ। প্রাচীন যুগের একমাত্র সাহিত্য নিদর্শন চর্যাপদ, আর এর পদকর্তাদের তালিকায় এই নাম নেই। লুইপাদকে প্রথম পদকর্তা ধরা হয়, কাহ্নপাদ সবচেয়ে বেশি পদ লিখেছেন, আর ভুসুকুপাদ সংখ্যায় দ্বিতীয়। তাই এই তিনজনই প্রাচীন যুগের কবি।

যে পরীক্ষায় এসেছে: BCS

পাচালিকার হিসেবে সর্বাধিক খ্যাতি কার ছিল?

  1. ক) দাশরথি রায়
  2. খ) রামনিধি গুপ্ত
  3. গ) ফকির গরীবুল্লাহ
  4. ঘ) রামরাম বসু
উত্তর দেখুন

সঠিক উত্তর: ক) দাশরথি রায়

উত্তর দাশরথি রায়, যিনি দাশু রায় নামে বেশি পরিচিত। উনিশ শতকে তিনি পাঁচালি গানকে সবচেয়ে জনপ্রিয় করেন, ছড়া, অনুপ্রাস আর ব্যঙ্গে ভরা তাঁর পালা শুনতে মানুষ ভিড় করত। রামনিধি গুপ্ত (নিধুবাবু) টপ্পা গানের জন্য, ফকির গরীবুল্লাহ পুঁথি সাহিত্যের জন্য, আর রামরাম বসু গদ্যের জন্য খ্যাত।

যে পরীক্ষায় এসেছে: BCS ২০১৮

মনসা দেবীকে নিয়ে লেখা বিজয়গুপ্তের মঙ্গলকাব্যের নাম কী?

  1. ক) 'মনসামঙ্গল'
  2. খ) 'মনসাবিজয়'
  3. গ) 'পদ্মপুরাণ'
  4. ঘ) 'পদ্মাবতী'
উত্তর দেখুন

সঠিক উত্তর: গ) 'পদ্মপুরাণ'

উত্তর ‘পদ্মপুরাণ’। পনেরো শতকে বরিশালের কবি বিজয়গুপ্ত মনসার কাহিনি নিয়ে যে কাব্য লেখেন, তার নাম এটি। কাব্যের ধারার নাম মনসামঙ্গল, কিন্তু বিজয়গুপ্তের বইয়ের নাম পদ্মপুরাণ। ‘মনসাবিজয়’ বিপ্রদাস পিপিলাইয়ের লেখা, আর ‘পদ্মাবতী’ আলাওলের কাব্য।

যে পরীক্ষায় এসেছে: BCS ২০১৮

'আমারে বন্ধুরা আনবাড়ি যায় আমারি আসিনা দিয়া' বাক্যটি কার রচনা?

  1. ক) বড়ু চণ্ডীদাস
  2. খ) দিনু চণ্ডীদাস
  3. গ) দ্বিজ চণ্ডীদাস
  4. ঘ) দিহু চণ্ডীদাস
উত্তর দেখুন

সঠিক উত্তর: গ) দ্বিজ চণ্ডীদাস

উত্তর দ্বিজ চণ্ডীদাস। চরণটি বৈষ্ণব পদাবলির, যেখানে রাধা দুঃখ করছেন যে প্রিয় তাঁর উঠান পেরিয়ে অন্যের ঘরে যায়। মধ্যযুগে চণ্ডীদাস নামে একাধিক কবি ছিলেন, আর পরীক্ষার প্রচলিত উত্তরে এই পদটি দ্বিজ চণ্ডীদাসের নামে ধরা হয়। বড়ু চণ্ডীদাসের পরিচিতি মূলত ‘শ্রীকৃষ্ণকীর্তন’-এর জন্য। দিনু ও দিহু আসলে ‘দীন চণ্ডীদাস’ নামের বিকৃত রূপ।